শেওলা স্থলবন্দর সড়কে দুই সপ্তাহ পর যানবাহন চলাচল শুরু হচ্ছে আজ


প্রায় দুই সপ্তাহ পর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা সেতু থেকে শেওলা (সুতারকান্দি) স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল  হচ্ছে। তিন কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। পরে আমদানি- রফতানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যান চলাচল বন্ধ করে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সংস্কার শেষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে যান চলাচল শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।


সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হলো শেওলা স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে পাথর, কয়লা, পেঁয়াজ, আদাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকেও বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, মাছ, তুলা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী রফতানি হয়। তাছাড়া এ সীমান্ত দিয়ে শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় করে। বর্তমান মৌসুমে বৃষ্টি শুরুর পর থেকে  শেওলা স্থলবন্দরের ৩ কিলোমিটার সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় বেহাল দশার সৃষ্টি হয়। কাদাপানিতে একাকার সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যান চলাচল। বাধাগ্রস্ত হয় আমদানি-রফতানি।


এদিকে সড়কটি মেরামতের দাবিতে সোচ্চার হন সিলেটের আমদানি-রফতানিকারকরা। তারা দফায় দফায় বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেন। সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন সাহা জানান, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ের স্বার্থে তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রুপের নিজ সড়কটি মেরামত করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। একপর্যায়ে সড়কটি আরো নাজুক হয়ে পড়ে। এরপর সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুই দফা সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়। সর্বশেষ চলতি মাসের প্রথম দিকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আমরাও কয়লা আমদানি বন্ধ করে দিই। গতকাল পর্যন্ত সড়কটিতে মেরামতকাজ চলছিল বলে তিনি জানান।


সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে আমরা সড়কে মেরামতকাজ শুরু করি। আশা করা যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার যান চলাচলের উপযোগী হবে। কাজ শেষ হলেই সড়কটি খুলে দেয়া হবে।